Skip to content
cropped cropped cropped cropped logo 44 3.png

al-burhan Elite Site

Affiliate

  • Home
  • About Us
  • Contact Us
  • Books
    • Holy Quran
    • Holy Hadis
    • Others Book
  • Affiliate
    • Mane T-Shirt
    • Women’s-T-Shirt
    • Product
    • Drones
    • Electric Scooter
    • Electrics
    • Computer
    • Car Perch
    • Acura MDX
    • Hair
  • Islamic Image
  • Online Digital Business:
    • Digital World
    • Online Business
    • Article
  • Kids Toy Store
    • Educational Toys
    • Baby Toys
    • Remote Control Toys
    • Dolls & Dollhouses
    • Arts & Crafts
    • Musical Toys
    • Ride-On Toys
    • Toy Cars & Trucks
    • STEM Toys
    • Plush & Soft Toys
    • Anime Toys
    • Boys Toys
    • Girls Toys
    • Gifts for Kids
    • Holiday Specials
    • Drone Toy Name
      • Sky Fly Drone
      • Aero Kids Drone
      • Mini Falcon Drone
      • Turbo Air Drone
      • Speed Hawk Drone
      • SmartFly Quadcopter
      • Eagle Eye Drone
      • ZoomX Drone
  • Blogs
  • CDL Coaction/Answer
    • CDL General knowledge
    • Air Brek
    • School Bus
    • Passenger
  • Toggle search form

Blogs

কুন্দেশায় একে স্তর যদি মানুষ খাতের হাজেজ হাম আজম, এ একটা স্তর যদি মানুষ পার করে তাহলে তার আমলামালা পাবলিক হবে এটা কোন খারাপ কাজের ব্যাপারে নাকামোরার ব্যাপারে আপনি নিয়েক করার সাথে সাথে একদল নাকামোর আপনার আমলামালা লিখে দিবে তার কাজটা করলে দশজন থেকে শাস্তি গুণ লেখা দিবে মিনিমামে তো এজন্য অন্যায় কাজ মানুষ করে সেটা শয়তানের ক্ষমতায় না আল্লাহর ক্ষমতায় আল্লাহ দান করেন ক্ষমতা তার পরেই মানুষ অন্যায় করে এবং এই সমস্ত সূক্ষ্ম জিনিসগুলি না বোঝার কারণে মানুষ কিন্তু অনেক তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয় কেউ বলতো যেটা করে তাও কি আল্লাহ ক্ষমতা দেওয়ায় সে আল্লাহ ক্ষমতা দেয় কিন্তু যেটা করার জন্য তুমি কি কি করেছো তোমাকেই সেটা হবে এটা তোমাকে এমনি দেওয়া হয়নি তুমি কি কি করেছো এইটার জন্য খাতের হাজেজ হাম আজম এসব স্তরগুলো পার হয়ে তারপর এখানে আসো তুমি ক্ষমতা আল্লাহই দান করে কারো কোনো ক্ষমতা নাই আর আল্লাহ ক্ষমতা দিবেন যেহেতু সে জান্নাত জান্নাত দুটাই পূরা করবে তাই এইজন্য তোমরা যেটা চাও সেইটা করারই ক্ষমতা তিনি দিবেন কিন্তু দেওয়ার মধ্যে তার যে সিস্টেম সেটা আপনাকে বললাম আউজুবিল্লাহেমিনাশ শয়তান রাজিম বিসমিল্লাহির রাহমান রাহিম আমা ওর্ন কোম্বের রাব্বেল আলামিন কি ধারণা তোমাদের রব্বুল আলামিন সম্পর্কে তো পিছনে হযরত নুহ আঃ এর বিবরণ গেছে এবং বলা হয়েছে নুহ আঃ এর সম্প্রদায় থেকে হযরত ইব্রাহিম আঃ এটা আল্লাহ বলেছেন এরপরে ইব্রাহিম আঃ কিভাবে তার জাতির কাছে দাওয়াত উপস্থাপন করেছে সেই বিষয়টা আল্লাহ এখানে বলছে। তিনি প্রথমে বললেন তার পিতাকে এবং তার জাতিকে মা মা যা তাবদুল তোমরা কিসের উপার্জন করছ? আইফকার আলেয়া তানধুলাল্লাহিতনেইদুল আল্লাহর পরিবার থেকে তোমরা মিথ্যা ঈলাহ কামনা করছ? তোমরা জ্বল্যকম্বের রব্বের আলামিন রাব্বের আলামিন সম্পর্কে তোমাদের কি ধারণা? এটা ইব্রাহিম আঃ তার পিতাকে এবং তার জাতিকে বললেন। সানরাজার নাজরাতন ফিন নুজুম তিনি আকাশের তারকার দিকে গভীরভাবে তাকালেন ফখরা ইলাহী শাকিম এবং বললেন আমি অসুস্থ। মানে ইব্রাহিম আঃ তার জাতির যুবকদের সাথে একটা মেলায় অংশগ্রহণ করার জন্য যাচ্ছিলেন রাত্রে বেলায়। তো ইব্রাহিম আঃ মেলায় যাবেন না তখন তিনি আকাশের দিকে গভীরভাবে তাকালেন। তাকাইয়া বললেন ইন্দ্রি শাকিম আমি অসুস্থ। এ বলতে তিনি পড়েই গেলেন একবারে । যখন পড়ে গেলেন তাতোয়াল্লাহর মুদ্বিরণ সবাই পিঠ দেখিয়ে তার থেকে পালিয়ে গেল । মানে পিঠ প্রদর্শন করল সবাই চলে গেল । তো ইব্রাহিম আঃ যে বললেন যে আমি শাকিম আমি অসুস্থ । তো আপনারা সুস্থতার দুইটা দিক আছে । এক হলো শারীরিক আর একটা মানসিক । তো ইব্রাহিম আঃ শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন না । তার অসুস্থতা আসছিল মানসিক অসুস্থতা। তার মানসিকতা চায় না যে আমি মুক্তি হই যাই মেলায় যাব। এজন্য তিনি শাকিম বলছেন এটা মিথ্যা বলেন নাই, অত্যন্ত কৌষণ স্বরূপে কথাটা বলেছেন। যে আমি মানসিকভাবে অসুস্থ, শারীরিকভাবে নয় কিন্তু ওদেরকে এটা ব্যাখ্যা থেকে দেয় নাই, তিনি বলছেন আমি অসুস্থ। অসুস্থ বলার পরে সবাই তাকে ফেলে চলে গেল। তাদের গন্তব্যস্থলে তারা মেলায় যাবে সেখানে গেল। তার রাগা এল আলেহাতেম। তখন ইব্রাহিম আঃ চুপিচুপি তাদের ইলাহদের কাছে উপস্থিত হলেন। রাগা শব্দটা তো কোথাও চুপিচুরি যাওয়া চুপি চুপি কোনো কাজ করা। তো রাগা এল আলেহাতেম ইব্রাহিম আঃ চুপি চুপি তাদের ইলাহদের কাছে গেল । নমরুদের বিশাল একটা হলঘর ছিল সেখানে শতের কি একাত্তরটা মূর্তি ছিল । তা হলঘরে ঠিক শেষ মাথায় ছিল বড়ো মূর্তি আর তার দুই ধারে আস্তে আস্তে সাজানো ছোট মূর্তিগুলো একেবারে দরজা পর্যন্ত । এইভাবে নমরুদের হলঘরটা মূর্তি দিয়ে সাজানো ছিল । তো ইব্রাহিম আঃ ওই হলঘরে ঢুকলেন । ঢুকে তিনি দেখলেন তাদের সামনে অনেক খাদ্য খাদক । বললেন, পাখা আল্লাহ তাকলো, আপনারা খাচ্ছেন না? খাদ্য খাদক দেখার কারণ হল ওই যে ওদের মেলা, ওই মেলায় যাওয়ার আগে সবাই বাড়ি থেকে ভালো ভালো খাবার পাক করে নিয়ে এসে ওই ভগবানদের সামনে রেখেছে । তো ভগবান দোয়া করবে আর যাওয়ার সময়ওরা ওখান থেকে আপনাপন খাবার নিয়ে বাড়িতে নিয়ে খাবে । এইজন্য ওখানে অনেক খাবার ছিল। প্রত্যেকটা বাড়ি থেকেই নিয়ে যাইত বড়বান খাবার ভগবন্দের সামনে রেখেছিল যে ভগবান এত সময় দোয়া করবেন আর আমরা ফেরার পথে নিয়ে যাব। এইজন্যই রামের আশ্রম তাদের ওখানে খাইদ্য দেখতে পেলে। ফকলা তিনি বললেন, আল্লাহ তাকলুল তোমরা খাচ্ছ না? মালাকন লাত আনতেকুন, কি হয়েছে তোমাদের কথা বলো না কেন? ইভের আশ্রম মূর্তিগুলিকে বলছেন, তোমাদের কি হয়েছে কথা বলো না কেন? খানা খাচ্ছ না কেন? ফার লাগা লেগিম জলর্ব বিলিয়ামিন, অতবার তিনি তাদের উপরে সোজরে আঘাত করলেন, এমনই ডান হাত ডান হাত দিয়ে আঘাত করানোনি, সোজরে আঘাত করা। তিনি চুপিসারায় তাদের উপরে সোজরে আঘাত করলেন। এই আঘাত করার মূর্তিগুলিকে ভাঙলেন, সবগুলোই ভেঙেছেন, শুধু বড় মূর্তিটা বাদে সেটাকে রেখে দিয়েছেন। ফাকবাল হেরেই এসে ফুল, তারপর সব লোক দৌড়িয়ে তার কাছে আসল। যখন টের পাইল যেখানে একটা ভাঙচুর হচ্ছে, তখন নমরদের বায়নে নমরদের যে জনগণের লোকজন তারা খুব দ্রুত তার কাছে চলে আসল। আসার পরে কহলা, আতা বদন মাহাতান হিতুন, ইভের আশ্রম বললেন, তোমরা কি এমন বস্তুরে বাদাত করছ যা তোমরা নিজ হাতে নির্মাণ করেছ? তোমরা নিজ হাতে বানিয়েছ সেই জিনিসের তুমি বাদাত করছ? আল্লাহ খলাখাকুম আমা তামরন, আল্লাহ তালা তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আমলগুলিও তিনি সৃষ্টি করেছেন। তোমরা যেটা করো সেটাও আল্লাহর সৃষ্টি। কিন্তু তোমাদের শায়িদা আল্লাহ সেই হিসেবে তোমাদেরকে ক্ষমতা দান করছে। ভালো কাজের ক্ষমতাও আল্লাহ দান করে, মন্দ কাজের ক্ষমতাও আল্লাহ দান করে । কেউ মনে করবেন না যে মন্দ কাজের ক্ষমতা শয়তান দান করে । তা না । শয়তান অন্তরে মন্দ কাজের পরামর্শ দিতে পারে । কিন্তু কাজ করার ক্ষমতাটা আল্লাহই দেয় । কখন দেয়? যখন মানুষ চূড়ান্তভাবে কাকুতিমিনতি করে আল্লাহর কাছে চাই যে এইটা আমি করব, এইটা আমারে করব । আমি চুরি করব, ধরা না পড়ি, আমি চুরি করি ধরা না পড়লে অভুক্তার দেয়, একটা রাত চাল দেব । অভুক্তারবে এই দেবো, সে দেবো । এভাবে মানে আল্লাহর কাছেই তারা আকুতি মিনতি করে বলতে থাকে । এরপর আল্লাহ তাকে খারাপ কাজ করার সময় দেয় । এজন্য খারাপ কাজের পরামর্শ শয়তান দেয় । কিন্তু কাজ করার ক্ষমতা দান করেন আল্লাহ । তাই আল্লাহ বলেছেন, এখানে আয়াতে বলা হয়েছে, আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং যা তোমরা করো সেটাও আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন । তো এই বিষয়টা একটু জটিল মনে হয়েছে আপনার কাছে । আমি একটু আর পরিষ্কার করে বলছি । মানুষ যে কাজ, আমরা যে কাজটা করি এই কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের যে কয়েকটা স্তর আমরা পার করি । স্তরগুলির নাম হচ্ছে খাতের, হাজেস, হাম, আজবিশয়েকটি স্তর । খাতের হলো মনের মধ্যে একটা হঠাৎ করে দুষ্কৃতিন্তা ভেসে ওঠা । যে আমি এই কাজটা করব । মসজিদে যাসি, মসজিদের পাশে পেঁপে গাছ লাগানো, পেঁপে বাক্সে একটা পেঁপে নিয়ে যাব । মনের মধ্যে হঠাৎ একটা চিন্তা আসে, খাতের । আশাফেরা চিন্তা আবার বিলুপ্ত হয়ে গেল, এটা নাই। মানে আসছিলো গেসে, দেখছেন? তাই মনে হচ্ছিলো ওইরকম কোনো একটা মানুষ, কোনো একটা নারী পুরুষ দেখার পরে মুহূর্তের মধ্যে আপনার মনে একটা হালকা একটা ধাক্কা আসছে, কিন্তু পরে সেটা নাই। এটা না হলো খাতের। হাজেস হচ্ছে চিন্তাটা মনের মধ্যে স্থায়ী হয়। যে আমি কাকে দেখলাম, সে কে, সে সুন্দরী না ময়লা না সে কুমারী না জীবনতী এই মনের মধ্যে আপনার একটা মানে ওই বিষয়টা একটা চিন্তাধারা চলছে। এটা হল হাজেস, খাতের হাজেস। এর পরেই হচ্ছে হাম পরিকল্পনা । যে আমি এই কাজটা করলে কিভাবে করা যাবে । যেমন সুরা ঈসুবের মধ্যে বলা আছে, ওয়ালা খাত হাম্মাদবী ও হাম্মমা্বে । এই যে হাম, যে ওই নারী তার সাথে খারাপ কাজের ইচ্ছা পোষণ করেছিল, পরিকল্পনা করেছিল, হাম্মাবিহার রাউলা রাহাত.

*****

আপনি একটি দীর্ঘ ইসলামিক আলোচনা/তাফসিরের অংশ শেয়ার করেছেন। এর মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে হলো:

  1. মানুষের কাজ করার ক্ষমতা
    • ইসলামী আকীদা অনুযায়ী আল্লাহই সবকিছুর স্রষ্টা, মানুষের ক্ষমতারও স্রষ্টা।
    • শয়তান মানুষকে কুমন্ত্রণা দেয়, কিন্তু কাজটি বাস্তবে করার ক্ষমতা আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতার মাধ্যমেই হয়।
    • এজন্য কুরআনে বলা হয়েছে যে আল্লাহ মানুষকে এবং মানুষের কর্মকে সৃষ্টি করেছেন।
  2. খারাপ কাজের দিকে অগ্রসর হওয়ার স্তর
    • খাতির (খাতের): হঠাৎ মনে কোনো চিন্তা আসা।
    • হাজিস (হাজেজ): সেই চিন্তা মনে কিছুটা স্থায়ী হওয়া।
    • হাম্ম: কাজটি করার পরিকল্পনা বা ইচ্ছা তৈরি হওয়া।
    • আজম: দৃঢ় সংকল্প, অর্থাৎ কাজটি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলা।
    ইসলামী শিক্ষায় সাধারণত প্রথম ধাপের ক্ষণিক চিন্তার জন্য মানুষ জবাবদিহির আওতায় আসে না, কিন্তু ইচ্ছা ও সংকল্প দৃঢ় হলে দায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
  3. হযরত ইবরাহীম (আ.) ও মূর্তি ভাঙার ঘটনা
    • তিনি তাঁর জাতিকে প্রশ্ন করেছিলেন কেন তারা নিজেদের হাতে বানানো মূর্তির ইবাদত করে।
    • মেলায় না যাওয়ার জন্য তিনি বলেছিলেন, “আমি অসুস্থ”। অনেক মুফাসসির ব্যাখ্যা করেছেন যে এটি ছিল কৌশলী বক্তব্য (তাওরিয়া), সরাসরি মিথ্যা নয়।
    • পরে তিনি মূর্তিগুলো ভেঙে দেন, যাতে তাঁর জাতি তাদের উপাসনার অসারতা বুঝতে পারে।
  4. আয়াতের শিক্ষা
    • মানুষকে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে, সৃষ্টি করা বস্তুর নয়।
    • মানুষ নিজের কর্মের জন্য দায়ী।
    • শয়তান কেবল প্ররোচনা দেয়; সিদ্ধান্ত ও কর্মের জন্য মানুষই জবাবদিহি করবে।

আপনি যদি চান, আমি এই পুরো বক্তব্যটি শুদ্ধ বাংলা লিখিত আকারে সম্পাদনা করে, সারসংক্ষেপ আকারে, অথবা কুরআনের আয়াত ও তাফসিরসহ বিস্তারিত নোট আকারে সাজিয়ে দিতে পারি।

****

দেখেন যে তার পিছে ইয়াকুব আঃ এরকম মুখে আঙুল কামড়ে ধরছে । যে বেচারা তুমি কি করছ? তুমি নবীর সন্তান, তুমি নবী হবে । তখনই ঘাবড়িয়ে গেলেন । কোনো বর্ণনা মতে যে একখানা হাত চলে আসছে, হাতের তালু । তার মধ্যে লেখা আছে আল্লাহ তাকারাবু জেনাব । কোনো বর্ণনা আছে যে এই জুলাইকার হমকরণের আগে এরা তো মূর্তি পূজা ছিল এই জুলাইখা । ওই ঘরে একটা মূর্তি ছিল, সেই মূর্তিটাকে কাপড় দিয়ে ঢাকতেছিল । ইসুলা রসুল বলে যে ওটা কিন্তু তুমি ঢাকছো কেন? তো বলছে হলো আমাদের ভগবান সেজে যদি দেখে আমার অময় করলে তখন ইসুলা রসুলাম স্বীকার করলেন যে তোমার এই ভগবান যদি দেখে আমার অময় করলে তখনই কিন্তু সুলা স্বীকার করে দরজার দিকে দৌড়ে গেলেন । দরজাগুলো তালাবত্য ছিল । কিন্তু আল্লাহর ঘুমের দরজাগুলো খুলেছিল । আমার এই কাহিনী বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে হাম । এই যে এরা যে পর্যায়ে গেছিল এইটার নাম হচ্ছে হাম । এই কাজটা আমি কিভাবে সম্পন্ন করব, এটার পরিকল্পনা গ্রহণ নাম কি হাম? এই পরিকল্পনা গ্রহণ করার পরে সতর্কার্তে হলো আদম যে এখনই আমি এই কাজটা করবো । তো এই এই কাজটা আমি এখনই করবো । কিন্তু তখনও যদি আল্লাহ করতে না দেন তাহলে আপনি করতে পারবেন না । তারপরও আল্লাহ রিস্কা । কিন্তু ষাট টেস্টার যদি মানুষ খাতের হাজেজ হম আজম এই ষাট টেস্টার যদি মানুষ পার করে তাহলে তার আমল আল্লাহ পাপ লিখবে । এরা খারাপ কাজের ব্যাপারে । নেকামুলের ব্যাপারে আপনি নিয়ত করার সাথে সাথে একগুড় নেকামুল আপনার আমলে লাল লিখ দিবে । আর কাজটা করলে দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ আল্লাহ দিবে । মিনিমামই । তো এজন্য অন্যায় কাজ মানুষ করে সেটা শয়তানের ক্ষমতায় না । আল্লাহর ক্ষমতা । আল্লাহ দান করেন ক্ষমতা । তার পরেই মানুষ অন্যায় করে । এবং এই সমস্ত সুক্ষ্ম জিনিসগুলো না বোঝার কারণে মানুষ কিন্তু অনেক তর্ক বিতর্ক লিপ্ত হয় । কেউ বলে জেনাকে আল্লাহ ক্ষমতা দাওয়োছে আর ক্ষমতা দেয় । কেউ জেনাকরার জন্য কী কী করার সাথে সেটা ভাবো । এটা তোমাকে এমনি দেওয়া হয়নি । তুমি কী কী করেছো এইটার জন্য । খাতের হাহাজাহ, হাম বাস । এসব স্তর করে তুমি পার হয়ে তারপর এখানে আসছ তুমি । ক্ষমতা আল্লাহই দান আছে । আর কারো কোন ক্ষমতা নাই । আর আল্লাহ ক্ষমতা দিবেন । যেহেতু সে জান্নাত জানাবে দুটাই দূরে করবে । তাই এইজন্য তোমরা যেটা চাও সেইটা করারই ক্ষমতা তিনি দিবেন । কিন্তু দেওয়ার মধ্যে তার যে সিস্টেম সেটা আনা হয়ে বললাম । তিনি বললেন, কয়লা । আর তারপর তোমরা এমন কিছু রওয়াদ করছ যে তোমরা হাত দ্বারা নির্মাণ করো । আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের আমলগুলিও তিনি সৃষ্টি করেছেন । তো এভাবে কাহিনীগুলো কোরআনের বিভিন্ন জায়গায় আছে । এখানে একভাবে আছে, অন্য জায়গায় একটু বিস্তারিত আছে, কোন জায়গায় কম বেশি আছে । বললো, এবার তারা বলল, উজ্জোরা গুনিয়ান । তার জন্য একটা প্রাচীর নির্মাণ করো । একটা অটলিকা । এখানে প্রাচীর । তার জন্য একটা প্রাচীর নির্মাণ করো । ফালকু ফিল জাহিম এর পরে তোমরা সেই জ্বলন্ত আগুনে তাকে নিক্ষেপ করে দাও । তো অন্য জায়গায় আসে কোরআনের সেকালে দেখবেন, নমরুদ বলছে তুবিরা আইনাস । রাহল মিয়া সাদুল যে তোমরা তাকে মানুষের সম্মুখে উপস্থিত করো, মানুষেরা সাক্ষ্য দিক যে এটা সে করেছে কিনা । ইব্রাহিম আঃ কে আনা হলো । নমরুদ জিজ্ঞাসা করলো, আনতাফাহলতাহারদাবে আলে হাতেনেয়া ইব্রাহিম । ও ইব্রাহিম আমাদের ইলাহদের সাথে কি এই কাজ তুমি করেছ? তারা বললেন, তাদের উদ্যেশ্য করেছিস জিজ্ঞাসা করে দেখেন তার কাছে। আর উনি ওই কুলাটাও বড় ভগবানের কাঁধে ঝুলিয়ে রাখছিলেন। আর নম্রুদ তখন বলল যে কে করেছে? উনি বললেন, যে এই বড়জনে করেছে, তোমরা জিজ্ঞাসা করে দেখো। আর এই বড়জনে মানে তিনি নিজের দিকেও ইঙ্গিত করতে পারেন, আর ওই বড় মূর্তিটের দিকেও ইঙ্গিত করতে পারেন। এগুলোকে আরবি ভাষায় বলে তাউরিয়া। তাউরিয়া হলো মানে সত্যকে আড়ায় করে কৌশলপদভাবে কথা বলা। ইব্রাহিম আ তখন যুবক কিন্তু কতখানি কৌশল, কতখানি জ্ঞান তার ছিল। কৌশল কথাভাবে কথা বলে। তখন ওরা বললো যে তুমি তো জানো এরা কথা বলতে পারে না। তখন ওরা সবাই মাথা নাতো করল এবং বসে একটা চিন্তা করলো যে তাহলে আমরা কিসের উপাদান করছি? তো তাদের কাছে এই উদ্দেশ্যটা পৌঁছবার জন্যই ইব্রাহিম আ এই কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আমাদের জাতির পিতা । অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি । তো এখানে একসময় কি বলা হয়েছে, তারা বললো তার জন্য একটা প্রাচীর নির্মাণ করো । তিরিশ হাত উঁচু বড় একটা চতুর্দিকে ঘিরা একটা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছিল । এক মাস বসে লোক কিসমর্যকরা হয়েছিল । এগরা নড়সক জ্বালানোর জন্য । তারপরে সেই অগ্নিকুণ্ডের মধ্যে আগুন জ্বালাইয়া । তখন নংরদ বলল, ফালকু জাহিন, তোমরা এই জ্বলন্ত আগুনে তাকে ঝলে দাও । নিক্ষেপ করো । তখন এই আগুনের কাছে যাওয়া যাছিল না । তখন একটা বড় গাছে কফি কলের সাহায্যে তাকে বেঁধে গাছের মাথায় তুলে ওখান থেকে কাত করে আগুনের মধ্যে টাকা ফেলা হয়েছিল ইব্রাহিম আঃ কে । যেটাকে সৌরভ গাছ বলে, কফিকাল বলে এভাবেই ফেলা হয়েছিল । আল্লাহ বলেন, ফারাদরবেই কায়দান ফাজাল হমণাসফারিল তারা তার সাথে ষড়যন্ত্র চিন্তা করেছিল, তাকে ধ্বংস করার, হত্যা করার চিন্তা করেছিল । ফাজাল হমণাসফারের আমি তাদের সমস্ত পরিকল্পনাকে আমি পরাজিত করে দিলাম । নিচে ফেলে দিলাম, মানে পরাজিত করে দিলাম । তাহলে এখন দেখেন যে আল্লাহ যদি না থাকে তাহলে সারা পৃথিবীর বাদশা নমরুদ সে একজন মানুষের সাথে বোকাবোকা করে জিততে পারলো না । দেখেন তাহলে এখন ভাবেন যে আল্লাহ আছে । তিনি বিচার করবেন এবং পৃথিবীতে যার সাথে যারা অবাধ্যতা করেছে, নবী রসুলদেরকে কষ্ট দিয়েছে তাদেরকে তিনি শাস্তি দিয়েছেন তারও বিবরণ বিশালভাবে কোরআনে আসছে । ফেরাউন সম্প্রদায়কে শাস্তি দিয়েছেন পানিতে ডুবিয়ে, নমরুদকে শাস্তি দিয়েছেন মশার সাহায্যে । ফেরাউন সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে মরে বেলেছেন পানিতে । তারপরে লুত সম্প্রদায়কে প্রচুর পাথরের বৃষ্টি বর্ষায় তাদেরকে ধ্বংস করেছেন । আর জাতি সামুদ্র জাতি আসামে আইকা কমিতুব্বা বহু জাতির ধ্বংসিতি আছে আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন । এইজন্য আল্লাহ আছেন । এর প্রমাণ হলো এগুলি । একটা মানুষ সেই মানুষটার বাবাও তার পক্ষে না দেখে । আজরের ইব্রাহিম আঃ এর পক্ষে ছিল । আজর ঈমান আনেনি । তার মায়ের সম্পর্কে তাফসীরে বলা আছে ইব্রাহিম আঃ এর মায়ের নাম উমায়লা অথবা বুনা । তার মায় ঈমান এনেছিল । কিন্তু তার বাবা আজর ঈমান আনেনি । তো আল্লাহবর এভাবে আমি তাদেরকে পরাজিত করলাম এবং গুলার রাসনকে আমি তাকে আমি জয়যুক্ততা দান করলাম । কলা ইদিন না রাব্বিস তখন তিনি বললেন, আমি আল্লাহর হুমিকে আমি রোহান করব । আমি আল্লাহর দিকে অগ্রসর হব । আল্লাহ আমাকে সলর পথ দেখাবেন । এবং তিনি বললেন, রব্বে হাবলি বিনা সয়ালহিন যে আল্লাহ আপনি আমাকে নেক সন্তান দান করেন । ইব্রাহিম আঃ তখন আল্লাহর কাছে বললেন, রব্বে হাবলি বিনা সয়ালহিন যে আল্লাহ আপনি আমাকে নেক সন্তান দান করেন । তবে শোনাবে গুলাবেন হালিব । আল্লাহ বলেন আমি সুষম্পদ দিলাম তাকে একটা সন্তান । হালিব মানে অত্যন্ত ধৈর্যশীল সন্তান । এই ধৈর্যশীল সন্তানের আমি সুষম্পদ দিলাম । দেখেন, এটাই ইব্রাহিম আঃ সন্তানের জন্য আল্লাহকে দোয়া করছেন । এবং ইব্রাহিম আঃ নিজের জন্মটাও কিন্তু সিরোতন্ত্র আচার্য্যজনক । ইব্রাহিম আঃ এর জন্মটা কিভাবে হইছে শুনেন । তাফসিলে কিভাবে আছে? নমরুদ ছাড়া পৃথিবীর বাচ্চা । নমরুদ আর পোক্তে নাসার । এই দুইটা কাফের সারা পৃথিবীর বাসা ছিল । আর মুসলমানদের দুইজন সারা পৃথিবীর বাসা ছিল । একজন হল সরায়া আঃ আরেকজন হল যুলকরনাইন স্কন্দার । তো এই নমরুদ স্বপনে দেখে যে পূর্ব আকাশে একটা তারকা উদিত হয়েছে । তো এখন তারকাটা খুব জ্বল । এই মুহূর্তের মধ্যে তারকার আলোটা এমনভাবে বেড়েছে, সুন্দরক সূর্য অন্য সব আলো নিভে গেছে, শুধু একটা তারকার আলোটাই গোটা পৃথিবী আলোকে দুলে ফেলেছে। এটা নম্রদের কাছে খুব আশ্চর্য লাগল। একটা তারকার আলো এরকম হল কি? আমি এটা কী স্বপ্নে দেখেছি? দরবারের যারা গণক, কাহিন, স্বপ্নতত্ত্ববিদ তাদের কাছে বিষয়টা আলোচনা পড়ল। তারা বলল যে আপনার এই স্বপ্নটা খুব ভয়ংকর স্বপ্ন। এটার অর্থ হচ্ছে এই যে আপনি আজ থেকে ছয় মাসের মধ্যে এই বছরের শেষ হতে আরও ছয় মাস বাকি আছে। এই সময়ের মধ্যে আপনার দেশে এমন একটা পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে সেই সন্তানের কারণে আপনার সাম্রাজ্য ধ্বংস হবে এবং আপনার জাতি ধ্বংস হবে। এখন নম্রদ বলে এটা কেমন করে এটা আমি.

*****

আপনি যে অংশটি শেয়ার করেছেন, সেটি মূলত Prophet Ibrahim (ইবরাহিম আ.)-এর দাওয়াত, মূর্তি ভাঙার ঘটনা, আগুনে নিক্ষেপ এবং আল্লাহর ওপর তাঁর পূর্ণ ভরসার আলোচনা।

সংক্ষেপে মূল বিষয়গুলো হলো:

১. হাম (همّ) ও আজম (عزم)

  • হাম: কোনো কাজ করার পরিকল্পনা ও ইচ্ছা।
  • আজম: সেই কাজটি করার দৃঢ় সংকল্প।
  • বক্তার বক্তব্য অনুযায়ী, মানুষ খারাপ কাজের দিকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হয়—খাতির, হাজিস, হাম, আজম।
  • আল্লাহ ক্ষমতা না দিলে কোনো কাজই সম্পন্ন হয় না, তবে মানুষ নিজের ইচ্ছা ও সিদ্ধান্তের জন্য দায়ী।

২. ইবরাহিম (আ.) ও মূর্তিপূজকদের যুক্তি

  • তিনি মূর্তিগুলো ভেঙে বড় মূর্তিটিকে রেখে দেন।
  • যখন তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি বলেন বড় মূর্তিটিকে জিজ্ঞাসা করতে।
  • এর উদ্দেশ্য ছিল মানুষকে বুঝানো যে মূর্তিগুলো কথা বলতে বা কোনো ক্ষমতা রাখতে পারে না।
  • এটিকে অনেক আলেম “তাওরিয়া” (কৌশলী সত্যভাষণ) হিসেবে ব্যাখ্যা করেন।

৩. আগুনে নিক্ষেপ

  • নমরুদ ও তার অনুসারীরা ইবরাহিম (আ.)-কে আগুনে নিক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
  • কুরআনের বর্ণনা অনুযায়ী তারা ষড়যন্ত্র করেছিল, কিন্তু আল্লাহ তাদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেন।
  • অন্য স্থানে আল্লাহ আগুনকে নির্দেশ দেন: “হে আগুন! তুমি ইবরাহিমের জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যাও।”

৪. আল্লাহর সাহায্য

  • ইবরাহিম (আ.) একা ছিলেন, এমনকি তাঁর পিতা Azar তাঁর দাওয়াত গ্রহণ করেননি।
  • তবুও আল্লাহ তাঁকে সাহায্য করেন এবং তাঁর শত্রুদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেন।

৫. নেক সন্তানের জন্য দোয়া

  • ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেন: “হে আমার রব! আমাকে নেককার সন্তান দান করুন।”
  • এরপর আল্লাহ তাঁকে ধৈর্যশীল পুত্রের সুসংবাদ দেন, যাকে অধিকাংশ মুফাসসির Prophet Ismail (ইসমাঈল আ.) হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

আপনার উদ্ধৃত আলোচনায় কিছু ঘটনা (যেমন স্বপ্ন, হাতের তালুতে লেখা দেখা, মূর্তি কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা ইত্যাদি) তাফসির ও ঐতিহাসিক বর্ণনার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যায়। তবে এসব বর্ণনার সবগুলো সমানভাবে সহীহ বা প্রমাণিত নয়। কুরআনের স্পষ্ট আয়াত এবং সহীহ হাদিসকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

*******

খাতির থেকে আমল: মানুষের ইচ্ছা, আল্লাহর ক্ষমতা ও হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর শিক্ষা

ভূমিকা

মানুষের জীবনে ভালো ও মন্দ কাজের সূচনা কোথা থেকে হয়? শয়তানের ভূমিকা কী? আল্লাহর ইচ্ছা ও মানুষের দায়িত্বের সম্পর্ক কী? এই প্রশ্নগুলো নিয়ে যুগে যুগে আলোচনা হয়েছে। কুরআন ও তাফসিরের আলোকে আমরা দেখতে পাই যে মানুষের প্রতিটি কাজের পেছনে একটি ধারাবাহিক মানসিক প্রক্রিয়া কাজ করে।

এই বইয়ে আমরা মানুষের অন্তরের স্তরসমূহ, হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত, মূর্তি ভাঙার ঘটনা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুলের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করব।

অধ্যায় ১: মানুষের কাজের চারটি স্তর

মানুষ কোনো কাজ করার আগে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করে।

১. খাতির

মনের মধ্যে হঠাৎ কোনো চিন্তা উদয় হওয়া। এটি ক্ষণস্থায়ী। আসে এবং চলে যায়।

২. হাজিস

চিন্তাটি মনে স্থায়ী হতে শুরু করে। মানুষ বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকে।

৩. হাম

কাজটি কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার পরিকল্পনা করা।

৪. আজম

কাজটি করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা।

মানুষ যখন এসব স্তর অতিক্রম করে, তখন সে বাস্তব কর্মের দিকে অগ্রসর হয়।

অধ্যায় ২: নেক আমল ও গুনাহের পার্থক্য

আল্লাহ তাআলা বান্দার নেক নিয়তকেও মূল্যায়ন করেন।

  • নেক কাজের নিয়ত করলে সওয়াব লেখা হয়।
  • নেক কাজ সম্পন্ন করলে বহু গুণ সওয়াব দেওয়া হয়।
  • গুনাহের ক্ষেত্রে মানুষকে সুযোগ দেওয়া হয় ফিরে আসার।
  • শয়তান কুমন্ত্রণা দেয়, কিন্তু জোর করে কাউকে গুনাহ করাতে পারে না।

অধ্যায় ৩: ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ

কুরআনের শিক্ষা হলো—

“আল্লাহ তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমরা যা করো তাও তাঁর সৃষ্টির অন্তর্ভুক্ত।”

মানুষের কোনো স্বাধীন ক্ষমতা নেই যা আল্লাহর ক্ষমতার বাইরে। তবে মানুষকে ইচ্ছা, বিবেক ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের সামর্থ্য দেওয়া হয়েছে। এজন্যই সে তার কাজের জন্য জবাবদিহি করবে।

অধ্যায় ৪: ইবরাহিম (আ.)-এর দাওয়াত

হযরত ইবরাহিম (আ.) তাঁর জাতিকে প্রশ্ন করেছিলেন:

তোমরা কেন এমন কিছুর ইবাদত কর যা নিজেরাই তৈরি করেছ?

তিনি মানুষকে তাওহীদের দিকে আহ্বান করেন এবং মূর্তিপূজার অসারতা তুলে ধরেন।

অধ্যায় ৫: মূর্তি ভাঙার ঘটনা

একদিন তাঁর জাতি উৎসবে গেলে তিনি মূর্তিগুলোর কাছে যান।

তিনি মূর্তিগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

“তোমরা খাচ্ছ না কেন? কথা বলছ না কেন?”

এরপর তিনি বড় মূর্তিটি ছাড়া বাকিগুলো ভেঙে দেন।

যখন লোকেরা ফিরে আসে, তারা বিস্মিত হয়। ইবরাহিম (আ.) তাদের চিন্তা করতে বাধ্য করেন—যে মূর্তি নিজের ক্ষতিও রক্ষা করতে পারে না, সে কীভাবে উপাস্য হতে পারে?

অধ্যায় ৬: আগুনের পরীক্ষা

ইবরাহিম (আ.)-এর জাতি তাঁকে শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

তারা একটি বিশাল অগ্নিকুণ্ড প্রস্তুত করে এবং তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করে।

কিন্তু আল্লাহর হুকুমে আগুন তাঁর জন্য শীতল ও নিরাপদ হয়ে যায়।

এই ঘটনা প্রমাণ করে যে সমস্ত ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ।

অধ্যায় ৭: তাওয়াক্কুলের শিক্ষা

ইবরাহিম (আ.) মানুষের সাহায্যের ওপর নয়, আল্লাহর ওপর ভরসা করেছিলেন।

তিনি জানতেন:

  • আল্লাহই রক্ষাকারী।
  • আল্লাহই পথপ্রদর্শক।
  • আল্লাহই সাহায্যকারী।

তাই সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার মধ্যেও তিনি দৃঢ় ছিলেন।

অধ্যায় ৮: নেক সন্তানের জন্য দোয়া

ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর কাছে দোয়া করেছিলেন:

“হে আমার রব! আমাকে নেককার সন্তান দান করুন।”

আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং তাঁকে ধৈর্যশীল ও নেক সন্তান দান করেন।

এ থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে সন্তানের প্রকৃত সফলতা ধন-সম্পদে নয়, ঈমান ও চরিত্রে।

উপসংহার

মানুষের অন্তরে চিন্তার জন্ম হয় খাতির থেকে। তারপর হাজিস, হাম এবং আজমের মাধ্যমে তা কাজে রূপ নেয়। তাই মন্দ চিন্তার শুরুতেই সতর্ক হওয়া জরুরি।

হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন আমাদের শেখায়—

  • সত্যের পথে দৃঢ় থাকতে।
  • শিরক ও ভ্রান্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে।
  • আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা করতে।
  • নেক সন্তান ও নেক আমলের জন্য দোয়া করতে।

আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক পথের ওপর অটল থাকার তাওফিক দান করুন। আমিন।

********************************************************************

*******************************************************************************************************************************************

নিচে “দ্বিতীয় অধ্যায়: হাজিস (الهجس)” বিস্তারিতভাবে লেখা হলো। এটি পূর্বের “খাতির” অধ্যায়ের ধারাবাহিকতা অনুযায়ী মানুষের চিন্তার দ্বিতীয় স্তরকে ব্যাখ্যা করে।


দ্বিতীয় অধ্যায়: হাজিস (الهجس)

ভূমিকা

মানুষের অন্তরে চিন্তার যাত্রা এক ধাপে থেমে থাকে না। একটি চিন্তা প্রথমে আসে (খাতির), তারপর তা যদি হালকা হলেও মনোযোগ পায়, তখন সেটি ধীরে ধীরে স্থায়ী হতে শুরু করে। এই দ্বিতীয় স্তরকে ইসলামী পরিভাষায় বলা হয় “হাজিস” (الهجس)।

হাজিস হলো সেই চিন্তা, যা কেবল এসে চলে যায় না, বরং কিছুটা সময় মানুষের মনে অবস্থান করে এবং ঘোরাফেরা করতে শুরু করে। মানুষ সেই চিন্তা নিয়ে ভাবতে থাকে, প্রশ্ন করে, কল্পনা করে এবং মানসিকভাবে তার সাথে যুক্ত হতে শুরু করে।

ইসলামী আধ্যাত্মিক বিদ্যায় হাজিসকে বলা হয়—

“চিন্তার দ্বিতীয় দরজা, যেখানে প্রবেশ করলে তা স্থায়ী হওয়ার দিকে অগ্রসর হয়।”


হাজিসের প্রকৃতি

হাজিস হলো খাতিরের পরবর্তী ধাপ। এটি এখনও পূর্ণ সিদ্ধান্ত নয়, কিন্তু এটি আর সম্পূর্ণ ক্ষণস্থায়ীও নয়।

হাজিসের প্রধান বৈশিষ্ট্য:

  1. চিন্তা বারবার ফিরে আসে
  2. মন সেটিকে ধরে রাখতে শুরু করে
  3. কল্পনা যুক্ত হয়
  4. আবেগ ধীরে ধীরে সক্রিয় হয়
  5. মানুষ বিষয়টি নিয়ে অভ্যন্তরীণ সংলাপ শুরু করে

উদাহরণ:

  • কেউ হঠাৎ ব্যবসার চিন্তা করল → (খাতির)
  • এরপর সে ভাবতে লাগল: “যদি করি, কেমন হবে?” → (হাজিস)

খাতির ও হাজিসের পার্থক্য

বিষয়খাতিরহাজিস
প্রকৃতিহঠাৎ চিন্তাস্থায়ী হতে শুরু করা চিন্তা
স্থায়িত্বঅল্প সময়তুলনামূলক বেশি সময়
মনোযোগখুব কমমাঝারি
প্রভাবসামান্যগভীর হতে শুরু করে
নিয়ন্ত্রণসহজকিছুটা কঠিন

খাতির হলো আগন্তুক, আর হাজিস হলো ঘরে ঢুকে বসে পড়া অতিথি।


কুরআন ও হাদিসের আলোকে চিন্তার স্থায়িত্ব

আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তরের গোপন অবস্থা সম্পর্কে বলেন:

“আমি মানুষের অন্তরের ধারণার চেয়েও তার নিকটবর্তী।”
— (সূরা ক্বাফ ৫০:১৬)

এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মানুষের চিন্তা আল্লাহর নজরের বাইরে নয়।

হাদিসে এসেছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে আসা চিন্তা ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না তারা তা প্রকাশ করে বা কাজে পরিণত করে।”
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস হাজিসের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হাজিস হলো সেই স্তর যেখানে চিন্তা এখনো কাজ হয়নি, কিন্তু স্থায়ী হতে শুরু করেছে।


হাজিসের উৎস

হাজিস চারটি উৎস থেকে আসতে পারে (খাতিরের মতোই, কিন্তু গভীরতর প্রভাব নিয়ে):

১. রাহমানী উৎস (আল্লাহর পক্ষ থেকে)

এ ধরনের হাজিস মানুষকে কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়।

উদাহরণ:

  • তাওবা করার চিন্তা বারবার আসা
  • নামাজ ঠিক করার চিন্তা
  • কুরআন শেখার আগ্রহ বৃদ্ধি

২. ফেরেশতার প্রেরণা

ফেরেশতা মানুষের অন্তরে স্থায়ী ভালো চিন্তা তৈরি করতে সাহায্য করে।

হাদিসে এসেছে:

“ফেরেশতা ভালো কাজের প্রতি উৎসাহ দেয়।”

এ ধরনের হাজিস মানুষের মধ্যে ধৈর্য, ন্যায়, এবং আত্মশুদ্ধির অনুভূতি তৈরি করে।


৩. নফসের প্রভাব

নফস যখন কোনো বিষয়কে আকর্ষণীয় মনে করে, তখন তা বারবার মনে আসে।

উদাহরণ:

  • দুনিয়াবি লোভ
  • অহংকার
  • প্রতিশোধের চিন্তা
  • অতিরিক্ত ভোগবিলাস

৪. শয়তানের প্রভাব

শয়তান হাজিস স্তরে খুব সক্রিয় হয়। কারণ এটি হলো সিদ্ধান্তের কাছাকাছি স্তর।

কুরআনে বলা হয়েছে:

“যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে।”
— (সূরা আন-নাস ১১৪:৫)

শয়তান চেষ্টা করে চিন্তাকে স্থায়ী করতে।


হাজিসের মানসিক প্রক্রিয়া

হাজিস তৈরি হয় ধাপে ধাপে:

  1. খাতির আসে
  2. মন সেটিকে গ্রহণ করে
  3. কল্পনা শুরু হয়
  4. প্রশ্ন তৈরি হয়
  5. আবেগ যুক্ত হয়
  6. চিন্তা পুনরাবৃত্তি হয়

এই পুনরাবৃত্তিই হাজিসকে শক্তিশালী করে।


হাজিসের উদাহরণসমূহ

১. ভালো হাজিস

  • “আমি নিয়মিত নামাজ পড়ব”
  • “আমি কুরআন শিখব”
  • “আমি গরিবকে সাহায্য করব”

এই চিন্তাগুলো বারবার মনে আসতে থাকে এবং মানুষকে ভালো দিকে টানে।


২. খারাপ হাজিস

  • “আমি প্রতিশোধ নেব”
  • “আমি হারাম পথে যাব”
  • “আমি মিথ্যা বললে লাভ হবে”

এই চিন্তাগুলো বারবার আসলে তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে।


হাজিস এবং নফসের যুদ্ধ

মানুষের অন্তরে একটি অদৃশ্য যুদ্ধ চলে:

  • একদিকে রাহমানী হাজিস
  • অন্যদিকে শয়তানী হাজিস

যে হাজিসকে মানুষ বেশি গুরুত্ব দেয়, সেটিই শক্তিশালী হয়।

হাদিসে আছে:

“তোমাদের মধ্যে একজনের অন্তরে দুই ধরনের আহ্বান থাকে—একটি ভালো, একটি খারাপ।”


হাজিস নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব

হাজিস যদি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে এটি পরবর্তী ধাপে চলে যায়:

হাজিস → আজম (সিদ্ধান্ত) → আমল (কাজ)

অর্থাৎ, শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ না করলে এটি কাজের রূপ নেয়।

উদাহরণ:

  • খারাপ চিন্তা → বারবার ভাবা → সিদ্ধান্ত → কাজ → অভ্যাস → চরিত্র

কুরআনের নির্দেশনা: চিন্তা নিয়ন্ত্রণ

আল্লাহ বলেন:

“তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:১৬৮)

হাজিস হলো সেই “পদাঙ্ক”, যা অনুসরণ করলে মানুষ ধীরে ধীরে পাপের দিকে যায়।

আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে:

“যদি শয়তানের কুমন্ত্রণা আসে, তবে আল্লাহর আশ্রয় চাও।”
— (সূরা আল-আরাফ ৭:২০০)


হাজিস ও আত্ম-সংলাপ (Self Talk)

হাজিস স্তরে মানুষ নিজের সাথে কথা বলতে শুরু করে:

  • “আমি কি এটা করব?”
  • “যদি করি তাহলে কী হবে?”
  • “না করলে কী হবে?”

এই অভ্যন্তরীণ সংলাপই চিন্তাকে গভীর করে।

মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় internal dialogue।


হাজিস এবং কল্পনার শক্তি

হাজিসের সাথে কল্পনা যুক্ত হলে এটি আরও শক্তিশালী হয়।

মানুষ তখন শুধু চিন্তা করে না, বরং দৃশ্য তৈরি করে:

  • ভবিষ্যতের দৃশ্য
  • সম্ভাবনার দৃশ্য
  • ভয়ের দৃশ্য
  • আনন্দের দৃশ্য

এই কল্পনা হৃদয়কে প্রভাবিত করে।


হাজিসের আধ্যাত্মিক ঝুঁকি

যদি খারাপ হাজিস দীর্ঘ সময় থাকে, তাহলে:

  • অন্তর অন্ধকার হতে পারে
  • গুনাহ সহজ মনে হতে পারে
  • ইবাদতে অনীহা আসতে পারে
  • সন্দেহ বাড়তে পারে

এ কারণেই আলেমরা বলেন:

“প্রথম চিন্তাকেই থামাও।”


হাজিস থেকে বাঁচার উপায়

১. দ্রুত যিকির করা

“আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির রাজিম”

২. মন পরিবর্তন করা

অন্য কাজে মন দেওয়া

৩. ভালো চিন্তা আনয়ন

কুরআন তিলাওয়াত, দোয়া

৪. পরিবেশ পরিবর্তন

খারাপ পরিবেশ থেকে দূরে থাকা

৫. ইস্তিগফার

আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া


হাজিস এবং তাকওয়া

তাকওয়া মানে শুধু কাজ নয়, বরং চিন্তার পাহারা।

যে ব্যক্তি তার হাজিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে ধীরে ধীরে মুত্তাকি হয়।

আল্লাহ বলেন:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:১৯৪)


উপসংহার

হাজিস হলো মানুষের চিন্তার সেই স্তর যেখানে মন প্রথমবার কোনো চিন্তাকে “নিজের মতো” করে নিতে শুরু করে।

এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়, কারণ এখান থেকেই মানুষের ভবিষ্যৎ কাজের ভিত্তি তৈরি হয়।

ইসলাম আমাদের শেখায়—

  • চিন্তা ছোট হলেও তা অবহেলা করো না
  • ভালো চিন্তাকে শক্তিশালী করো
  • খারাপ চিন্তাকে থামাও

কারণ—

“চিন্তা হলো কাজের বীজ।”


আপনি চাইলে আমি পরের অধ্যায় “আজম (العزم) — সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্তর” ৫০০০ শব্দে লিখে দিতে পারি, অথবা এই পুরো বইটি একসাথে PDF বই আকারে সাজিয়ে দিতে পারি।

৩. হাম কাজটি কীভাবে সম্পন্ন করা যায়, তার পরিকল্পনা করা। ৫০০০ ওয়ারডের লিখেদেন

নিচে “তৃতীয় অধ্যায়: হাম (الهمّ)” বিস্তারিতভাবে লেখা হলো। এটি চিন্তার ধারাবাহিক তিন স্তরের (খাতির → হাজিস → হাম) মধ্যে তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানসিক পর্যায়গুলোর একটি, যেখানে চিন্তা শুধু স্থায়ীই হয় না, বরং কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় তার পরিকল্পনা শুরু হয়।


তৃতীয় অধ্যায়: হাম (الهمّ)

ভূমিকা

মানুষের অন্তরের চিন্তার যাত্রা ধীরে ধীরে গভীর হয়। প্রথমে আসে খাতির (হঠাৎ চিন্তা), তারপর হাজিস (স্থায়ী হতে শুরু করা চিন্তা), আর এরপর আসে হাম (الهمّ)।

হাম হলো সেই স্তর যেখানে মানুষ কোনো বিষয় শুধু চিন্তা করে না, বরং সেই চিন্তাকে বাস্তব করার জন্য পদ্ধতি, পথ, উপায় এবং পরিকল্পনা তৈরি করতে শুরু করে।

অর্থাৎ:

খাতির = চিন্তার জন্ম
হাজিস = চিন্তার স্থায়িত্ব
হাম = চিন্তার পরিকল্পনা

ইসলামী পরিভাষায় “হাম” হলো সেই মানসিক অবস্থা, যেখানে ব্যক্তি বলে:

“আমি এটা করব… কিন্তু কীভাবে করব?”


হাম-এর সংজ্ঞা

আলেমদের মতে:

হাম হলো এমন মানসিক অবস্থা যেখানে একটি চিন্তা অন্তরে স্থায়ী হয়ে যায় এবং মানুষ সেটিকে বাস্তবায়নের জন্য উপায় খুঁজতে শুরু করে।

এটি শুধু ভাবনা নয়, বরং “mental planning stage”।


কুরআন ও হাদিসে হাম-এর ধারণা

কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন:

“নিশ্চয়ই তোমাদের অন্তরের গোপন চিন্তাও আল্লাহ জানেন।”
— (সূরা মুলক ৬৭:১৩)

এখানে “গোপন চিন্তা” বলতে শুধু ইচ্ছা নয়, বরং পরিকল্পনার স্তরও অন্তর্ভুক্ত।

হাদিসে এসেছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরের চিন্তা ক্ষমা করেছেন, যতক্ষণ না তারা তা প্রকাশ করে বা বাস্তবায়ন করে।”
— (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, হাম হলো সেই স্তর যেখানে চিন্তা এখনো কাজ হয়নি, কিন্তু কাজের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।


হাম-এর প্রকৃতি

হাম-এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আছে:

১. পরিকল্পনা শুরু হয়

মানুষ চিন্তা করে:

  • কীভাবে করব?
  • কখন করব?
  • কোথায় করব?
  • কার সাহায্য লাগবে?

২. মানসিক দৃশ্য তৈরি হয়

ব্যক্তি কল্পনা করে তার কাজ কীভাবে সফল হবে।


৩. সিদ্ধান্তের প্রস্তুতি তৈরি হয়

এটি আজম (চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত)-এর খুব কাছাকাছি।


৪. বাস্তবতার সাথে সংযোগ তৈরি হয়

মানুষ বাস্তব উপায়, মাধ্যম, সুযোগ খুঁজতে শুরু করে।


হাজিস ও হাম-এর পার্থক্য

বিষয়হাজিসহাম
অবস্থাচিন্তা স্থায়ী হয়পরিকল্পনা শুরু হয়
গভীরতামাঝারিগভীর
কল্পনাকম থেকে মাঝারিবেশি
বাস্তবতাদূরবর্তীকাছাকাছি
ফলাফলভাবনাপ্রস্তুতি

উদাহরণ:

  • হাজিস: “আমি ব্যবসা করব”
  • হাম: “আমি কীভাবে ব্যবসা শুরু করব, কোথায় দোকান নেব, কত টাকা লাগবে”

হাম-এর মানসিক প্রক্রিয়া

হাম ধাপে ধাপে তৈরি হয়:

ধাপ ১: চিন্তা স্থায়ী হওয়া

একটি বিষয় বারবার মনে আসে।

ধাপ ২: আগ্রহ বৃদ্ধি

মানুষ সেটির প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে।

ধাপ ৩: বিশ্লেষণ শুরু

“এটা সম্ভব কি না?”

ধাপ ৪: উপায় খোঁজা

“কীভাবে করব?”

ধাপ ৫: পরিকল্পনা তৈরি

ধাপে ধাপে পরিকল্পনা সাজানো।


হাম এবং নফসের ভূমিকা

নফস (আত্মা) এই পর্যায়ে অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

ভালো নফস হলে:

  • ভালো কাজের পরিকল্পনা তৈরি হয়
  • ইবাদতের রুটিন তৈরি হয়
  • দান-সদকার পরিকল্পনা হয়

খারাপ নফস হলে:

  • গুনাহের পরিকল্পনা
  • প্রতিশোধের কৌশল
  • হারাম উপায় খোঁজা

শয়তানের ভূমিকা হাম স্তরে

শয়তান এই স্তরে বেশি চেষ্টা করে কারণ এখানে মানুষ কাজের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

কুরআনে বলা হয়েছে:

“শয়তান তোমাদের দারিদ্র্যের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার দিকে আহ্বান করে।”
— (সূরা আল-বাকারা ২:২৬৮)

শয়তান পরিকল্পনাকে এমনভাবে সাজায় যাতে গুনাহ বাস্তব রূপ নেয়।


হাম ও মানুষের দায়িত্ব

এই স্তরে মানুষের দায়িত্ব সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ:

খাতির ও হাজিস নিয়ন্ত্রণ করা সহজ
কিন্তু হাম নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন, কারণ এখানে মানুষ “প্রস্তুত” হয়ে যায়


হাম-এর উদাহরণ

১. ভালো হাম

  • একজন ব্যক্তি পরিকল্পনা করে:
    “আমি ফজরের নামাজ জামাতে পড়ব, তাই রাতে তাড়াতাড়ি ঘুমাব।”
  • একজন ছাত্র:
    “আমি কুরআন হিফজ করব, তাই প্রতিদিন ২ পৃষ্ঠা পড়ব।”

২. খারাপ হাম

  • “আমি মিথ্যা বলে টাকা উপার্জন করব”
  • “আমি প্রতারণার মাধ্যমে লাভ করব”
  • “আমি কারো ক্ষতি করার পরিকল্পনা করব”

হাম ও সিদ্ধান্ত (আজম) এর পার্থক্য

হাম হলো পরিকল্পনা, আর আজম হলো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।

স্তরঅর্থ
হামপরিকল্পনা তৈরি
আজমসিদ্ধান্ত গ্রহণ

উদাহরণ:

  • হাম: “আমি ব্যবসা শুরু করার উপায় ভাবছি”
  • আজম: “আমি কাল থেকেই ব্যবসা শুরু করব”

ইসলামি দৃষ্টিতে পরিকল্পনার গুরুত্ব

ইসলাম পরিকল্পনাকে নিষিদ্ধ করেনি, বরং সঠিক পরিকল্পনাকে উৎসাহিত করেছে।

কুরআনে বলা হয়েছে:

“নিশ্চয়ই আল্লাহ পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।”
— (সূরা আলে ইমরান ৩:৫৪)

এখানে বোঝা যায়, ভালো পরিকল্পনা ইসলামের অংশ।


নবী ﷺ-এর জীবনে পরিকল্পনা

হিজরতের সময় নবী ﷺ অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কাজ করেছিলেন:

  • গোপন পথ নির্বাচন
  • সহযাত্রী নির্বাচন
  • সময় নির্ধারণ
  • নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এটি ইসলামে “হাম” পর্যায়ের বাস্তব উদাহরণ।


হাম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ

হাম স্তরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আত্মনিয়ন্ত্রণ।

কারণ এখানে মানুষ:

  • পরিকল্পনা করছে
  • সুযোগ খুঁজছে
  • বাস্তবের কাছাকাছি যাচ্ছে

যদি নিয়ন্ত্রণ না থাকে, তবে পরিকল্পনা কাজ হয়ে যেতে পারে।


ভালো হাম তৈরি করার উপায়

১. নিয়ত শুদ্ধ করা

সব পরিকল্পনা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া উচিত।

২. ইস্তিখারা করা

সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।

৩. পরামর্শ নেওয়া

ইসলামে শুরা (পরামর্শ) গুরুত্বপূর্ণ।

“এবং তাদের কাজ পরামর্শের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।”
— (সূরা শুরা ৪২:৩৮)

৪. ধৈর্য রাখা

সব পরিকল্পনা ধীরে বাস্তবায়ন করতে হয়।

৫. দোয়া করা

“হে আল্লাহ! আমার পরিকল্পনাকে কল্যাণকর করো।”


খারাপ হাম থেকে বাঁচার উপায়

১. দ্রুত আল্লাহর স্মরণ করা

যিকির করলে খারাপ চিন্তা দুর্বল হয়।

২. পরিবেশ পরিবর্তন

খারাপ পরিকল্পনা থেকে দূরে থাকা।

৩. কুরআন তিলাওয়াত

অন্তর পরিষ্কার রাখে।

৪. ভালো কাজে ব্যস্ত থাকা

খারাপ পরিকল্পনার সময় না পাওয়া।


হাম এবং দুনিয়ার বাস্তবতা

মানুষের জীবনের বড় বড় পরিবর্তন হাম থেকেই আসে।

  • ব্যবসা শুরু
  • পড়াশোনার সিদ্ধান্ত
  • বিয়ে
  • ক্যারিয়ার পরিকল্পনা

সবকিছুই প্রথমে “হাম” থেকে শুরু হয়।


হাম এবং আধ্যাত্মিক ঝুঁকি

যদি খারাপ হাম শক্তিশালী হয়, তাহলে:

  • গুনাহ পরিকল্পিত হয়
  • পাপ সহজ মনে হয়
  • বিবেক দুর্বল হয়
  • ঈমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়

হাম এবং তাকওয়া

তাকওয়া শুধু কাজ নয়, বরং পরিকল্পনার পবিত্রতাও।

মুত্তাকি ব্যক্তি:

  • ভালো পরিকল্পনা করে
  • হারাম পরিকল্পনা থেকে দূরে থাকে
  • আল্লাহকে কেন্দ্র করে চিন্তা করে

উপসংহার

হাম হলো মানুষের চিন্তার সেই স্তর, যেখানে মন শুধু চিন্তা করে না, বরং সেই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য পথ তৈরি করে।

এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়, কারণ এখান থেকেই কাজের ভিত্তি তৈরি হয়।

ইসলাম আমাদের শেখায়:

  • পরিকল্পনা করো
  • কিন্তু আল্লাহকে ভুলে নয়
  • ভালো পরিকল্পনা করো
  • খারাপ পরিকল্পনা থেকে দূরে থাকো

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা:

“মানুষের ভবিষ্যৎ তার পরিকল্পনার ভিতরে লুকানো থাকে, আর তার পরিকল্পনার ভিতরে তার ঈমান লুকানো থাকে।”


আপনি চাইলে আমি পরের অধ্যায় “আজম (العزم) — চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের স্তর” ৫০০০ শব্দে লিখে দিতে পারি, অথবা এই চারটি অধ্যায় একসাথে করে একটি পূর্ণ ইসলামিক বই (PDF কাঠামো) বানিয়ে দিতে পারি।

৪. আজম কাজটি করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা। ৫০০০ ওয়ারডের লিখেদেন

নিচে “চতুর্থ অধ্যায়: আজম (العزم)” বিস্তারিতভাবে লেখা হলো। এটি মানুষের চিন্তার ধারাবাহিকতার চূড়ান্ত মানসিক পর্যায়গুলোর একটি, যেখানে পরিকল্পনা (হাম) শেষ হয়ে দৃঢ় সংকল্প, সিদ্ধান্ত এবং বাস্তব করার মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হয়।


চতুর্থ অধ্যায়: আজম (العزم)

ভূমিকা

মানুষের অন্তরের চিন্তার যাত্রা একটি ধাপে ধাপে বিকশিত প্রক্রিয়া। প্রথমে আসে খাতির (হঠাৎ চিন্তা), তারপর হাজিস (স্থায়ী চিন্তা), এরপর হাম (পরিকল্পনা), এবং শেষ ধাপ হলো আজম (العزم)।

আজম হলো সেই স্তর যেখানে মানুষ আর শুধু চিন্তা বা পরিকল্পনা করে না, বরং দৃঢ়ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং বলে:

“আমি এটা অবশ্যই করব।”

ইসলামী আধ্যাত্মিক পরিভাষায় আজম হলো:

“অন্তরের সেই দৃঢ় অবস্থা যেখানে সন্দেহ শেষ হয়ে যায় এবং সিদ্ধান্ত স্থির হয়ে যায়।”


আজম-এর সংজ্ঞা

আলেমদের মতে:

আজম হলো সেই মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষ কোনো কাজ করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং তা বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুত হয়।

এটি হলো চিন্তার শেষ ধাপ, যেখানে আর “ভাবছি” নেই, আছে শুধু “করব”।


কুরআনে আজম-এর ধারণা

আল্লাহ তাআলা বলেন:

“যখন তুমি কোনো কাজের দৃঢ় সংকল্প (আজম) করো, তখন আল্লাহর উপর ভরসা করো।”
— (সূরা আলে ইমরান ৩:১৫৯)

এই আয়াতে “আজম” শব্দটি সরাসরি ব্যবহৃত হয়েছে, যা দেখায় যে ইসলাম দৃঢ় সংকল্পকে গুরুত্ব দেয়।


আজম-এর প্রকৃতি

আজম হলো মানসিক শক্তির চূড়ান্ত রূপ। এর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য:

১. সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়

আর কোনো দ্বিধা থাকে না।

২. সন্দেহ দূর হয়

“করব কি করব না” শেষ হয়ে যায়।

৩. মানসিক শক্তি বৃদ্ধি পায়

ব্যক্তি নিজেকে প্রস্তুত মনে করে।

৪. বাস্তব কাজের দিকে ধাবিত হয়

এটি কাজের সরাসরি পূর্বধাপ।


হাম ও আজম-এর পার্থক্য

বিষয়হামআজম
প্রকৃতিপরিকল্পনাচূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
অবস্থাচিন্তাভাবনাদৃঢ় সংকল্প
দ্বিধাথাকেথাকে না
ফলাফলপ্রস্তুতিকাজ শুরু
মানসিক অবস্থাভাবনাঅঙ্গীকার

উদাহরণ:

  • হাম: “আমি ব্যবসা শুরু করব, কীভাবে করব ভাবছি”
  • আজম: “আমি আগামীকাল থেকেই ব্যবসা শুরু করব”

আজম-এর মানসিক প্রক্রিয়া

আজম ধাপে ধাপে তৈরি হয়:

ধাপ ১: চিন্তা স্থায়ী হয় (হাজিস)

ধাপ ২: পরিকল্পনা তৈরি হয় (হাম)

ধাপ ৩: বাস্তব সম্ভাবনা যাচাই

ধাপ ৪: সিদ্ধান্ত গ্রহণ

ধাপ ৫: দৃঢ় সংকল্প তৈরি (আজম)


আজম এবং নফসের ভূমিকা

নফস (আত্মা) এই স্তরে অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে।

ভালো নফস হলে:

  • ইবাদতের সিদ্ধান্ত
  • ভালো কাজের দৃঢ় সংকল্প
  • আত্মশুদ্ধির অঙ্গীকার

খারাপ নফস হলে:

  • গুনাহ করার দৃঢ় সিদ্ধান্ত
  • অন্যায়ের পথে এগিয়ে যাওয়া
  • হারাম কাজের অঙ্গীকার

শয়তানের ভূমিকা আজম স্তরে

শয়তান এই স্তরে খুবই সক্রিয়, কারণ এখানেই কাজ বাস্তব হতে শুরু করে।

কুরআনে বলা হয়েছে:

“শয়তান মানুষকে প্রতিশ্রুতি দেয় এবং আশা দেখায়, কিন্তু সে শুধু প্রতারণা করে।”
— (সূরা আন-নিসা ৪:১২০)

শয়তান চেষ্টা করে:

  • সিদ্ধান্ত দুর্বল করতে
  • দ্বিধা সৃষ্টি করতে
  • বা খারাপ সিদ্ধান্তকে শক্তিশালী করতে

আজম ও ইখলাস

ইখলাস (নিয়তের বিশুদ্ধতা) আজমের ভিত্তি।

যদি আজম আল্লাহর জন্য হয়, তবে তা কল্যাণকর হয়।

হাদিসে এসেছে:

“নিশ্চয়ই কাজ নিয়তের উপর নির্ভর করে।”

অর্থাৎ, দৃঢ় সংকল্পের ভিত্তি যদি সঠিক হয়, তবে ফলাফলও সঠিক হয়।


ভালো আজমের উদাহরণ

১. ইবাদতের আজম

  • “আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ব”
  • “আমি কুরআন শেষ করব”

২. আত্মশুদ্ধির আজম

  • “আমি মিথ্যা ছাড়ব”
  • “আমি গুনাহ থেকে ফিরে আসব”

৩. দুনিয়াবি ভালো আজম

  • “আমি হালাল রিজিকের জন্য পরিশ্রম করব”
  • “আমি পড়াশোনায় সফল হব”

খারাপ আজমের উদাহরণ

  • “আমি মিথ্যা বলেই টাকা উপার্জন করব”
  • “আমি কারো ক্ষতি করব”
  • “আমি হারাম পথে যাব”

এ ধরনের আজম মানুষকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়।


আজমের গুরুত্ব ইসলামি জীবনে

ইসলামে আজম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ:

  • এটি কাজের শুরু বিন্দু
  • এটি চরিত্র গঠন করে
  • এটি ঈমানের বাস্তব রূপ প্রকাশ করে

আল্লাহ বলেন:

“যে আল্লাহর উপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।”
— (সূরা আত-তালাক ৬৫:৩)

আজম + তাওয়াক্কুল = সফল মুমিন


আজম এবং বাস্তব জীবনের উদাহরণ

উদাহরণ ১: শিক্ষার্থী

  • হাম: “আমি ভালো পড়ব কীভাবে বুঝব”
  • আজম: “আমি প্রতিদিন ৫ ঘণ্টা পড়ব”

উদাহরণ ২: ব্যবসায়ী

  • হাম: “আমি ব্যবসা করব ভাবছি”
  • আজম: “আমি আগামী মাসে ব্যবসা শুরু করব”

উদাহরণ ৩: ইবাদত

  • হাম: “আমি নিয়মিত নামাজ পড়ব”
  • আজম: “আমি আর কখনো নামাজ ছাড়ব না”

আজম এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ

আজম মানে শুধু সিদ্ধান্ত নয়, বরং নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা।

যে ব্যক্তি আজম করে:

  • সে নিজের অলসতা নিয়ন্ত্রণ করে
  • সে সময় ব্যবস্থাপনা করে
  • সে ধৈর্য ধরে রাখে

আজম শক্তিশালী করার উপায়

১. আল্লাহর উপর ভরসা করা (তাওয়াক্কুল)

২. দোয়া করা

৩. ভালো পরিবেশে থাকা

৪. ছোট লক্ষ্য দিয়ে শুরু করা

৫. ধারাবাহিকতা বজায় রাখা


আজম ভেঙে যাওয়ার কারণ

অনেক সময় মানুষ সিদ্ধান্ত নেয় কিন্তু ভেঙে ফেলে। কারণ:

  • ভয়
  • অলসতা
  • শয়তানের কুমন্ত্রণা
  • খারাপ সঙ্গ
  • আত্মবিশ্বাসের অভাব

কুরআনের শিক্ষা: দৃঢ়তা

আল্লাহ বলেন:

“তোমরা দুর্বল হয়ো না, দুঃখিত হয়ো না; যদি তোমরা মুমিন হও, তবে তোমরাই বিজয়ী।”
— (সূরা আলে ইমরান ৩:১৩৯)

এটি আজমের শক্তি সম্পর্কে নির্দেশনা।


আজম এবং তাকওয়া

তাকওয়া মানে শুধু ভয় নয়, বরং দৃঢ় সিদ্ধান্ত:

  • আল্লাহর পথে চলা
  • হারাম থেকে দূরে থাকা
  • ভালো কাজে অটল থাকা

আজমের আধ্যাত্মিক দিক

তাসাউফে আজমকে বলা হয়:

“অন্তরের আগুন যা মানুষকে কর্মের দিকে ঠেলে দেয়।”

যে ব্যক্তি সত্যিকারের আজম অর্জন করে, সে অলস থাকে না।


উপসংহার

আজম হলো মানুষের চিন্তার সেই চূড়ান্ত স্তর যেখানে:

  • চিন্তা শেষ হয়
  • পরিকল্পনা বাস্তব রূপ পায়
  • সিদ্ধান্ত দৃঢ় হয়
  • কাজের দরজা খুলে যায়

ইসলাম আমাদের শেখায়:

“তুমি দৃঢ় সংকল্প করো, তারপর আল্লাহর উপর ভরসা করো।”


শেষ কথা

চারটি স্তরের মধ্যে আজম হলো সেই বিন্দু, যেখানে মানুষ “চিন্তা থেকে কর্মের সীমান্তে” পৌঁছে যায়।

  • খাতির = চিন্তার জন্ম
  • হাজিস = চিন্তার স্থায়িত্ব
  • হাম = পরিকল্পনা
  • আজম = দৃঢ় সিদ্ধান্ত

Categories

Search

Copyright © 2026 alburhanelite.com

Powered by PressBook Grid Blogs theme